কেরালায় নীল সবুজের গালিচায়

ছবি: ইন্টারনেট
নীল সমুদ্রের ডাকে এগিয়ে যাচ্ছেন আপনি, তখনই পিছনে সবুজ পাহাড়ের হাতছানি। আর সাধ্যমতো টাকা আর ছুটি জমিয়ে যার আকর্ষণে এসেছেন, সেই ব্যাক ওয়াটার্সকেওতো এড়িয়ে যাওয়া চলে না। প্রকৃতি এখানে এতো অকৃপণ বলেই হয়তো কেরালার অন্য নাম ‘ভগবানের নিজের দেশ’। এসেই যখন পড়েছেন তখন নীল সবুজের গালিচায় চোখ আর মনের আরাম করে নিন সাধ্যমতো। যেখানে না গেলে আফসোস থেকে যাবে তারই খোঁজ রইল।

১.ভেম্বানাদ লেক :

কুমারাকমের ভেম্বানাদ লেক না গেলে আপনার কেরালা ভ্রমণ অসম্পূর্ণ। এই ব্যাক ওয়াটার জোনে থাকার জন্য পাবেন ভাসমান হাউসবোট। সমস্ত রকম আধুনিক সুযোগ-সুবিধা রয়েছে সেখানে। কেরালার ‘ওনাম’ উৎসবের সময় যদি যান, মন ভরে যাবে ভেম্বানাদে বাইচ প্রতিযোগিতা দেখে। নাম না জানা হরেক পাখির খোঁজে ঘুরে আসতে পারেন কুমারাকম পক্ষী নিবাস।

২.অষ্টমুদি ব্যাক ওয়াটার্স :

মোট আটটা ধারা রয়েছে। তাই নাম অষ্টমুদি। নানা প্রজাতির গাছপালা,পাখি ও প্রজাপতি চোখ টানবেই। এটা ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম ব্যাকওয়াটার্স। থাকার জন্য এখানেও রয়েছে ভাসমান বোট। কেরালার বিখ্যাত আয়ুর্বেদ চিকিৎসা করানোর সুযোগও পেয়ে যাবেন।তাই কোল্লাম জেলার এই ব্যাকওয়াটার্স দেখার সুযোগ একদম হাতছাড়া করবেন না।

৩.থিরুভাল্লাম ব্যাক ওয়াটার্স :

কেরালার অন্যতম আকর্ষণ তিরুবনন্তপুরমের এই ব্যাক ওয়াটার্স। কিল্লি ও কারনামা নদী আরবসাগরে পড়ার আগে এখানে এসে মিশেছে। থিরুভাল্লাম এর শান্ত সবুজ সব পর্যটকদেরই খুব পছন্দের। বোটিং করেই কেটে যাবে অনেকটা সময়।

৪.ভালিয়াপারাম্বা ব্যাক ওয়াটার্স :

চার নদীর মিলনস্থল ভালিয়াপারাম্বাকে স্বর্গের সঙ্গে তুলনা করা হয়। কাসারাগোদ অঞ্চলে এই ব্যাকওয়াটার্স এর আশেপাশে রয়েছে ওয়াইল্ডলাইফ স্যাঙ্কচুয়ারিও। নৌকায় সফর করে আসতে পারেন বিকাল ফোর্ট, চন্দ্রগিরি ফোর্ট, কপিল বিচ। বিনোদনের জন্য আছে হাইকিং এর ব্যবস্থা। কাসারাগোদের সূর্যাস্ত কিন্তু একদম মিস করবেন না।

৫.পুকোট লেক :

কেরালার অফবিট জায়গা গুলোর মধ্যে অন্যতম পুকোট লেক। ওয়েয়ানন্দের এই লেক ৮.৫ হেক্টর এলাকা জুড়ে রয়েছে। গভীরতা ৬.৫ মিটার। পাহাড়ের ঢালে স্বাদু জলের এই লেকের আকার ভারতের ম্যাপ এর মতো। নীল পদ্মের টানেও আপনাকে ঘুরে যেতে হবে পুকোট। লেক এর চারধার ঘিরে রয়েছে চিরসবুজ অরণ্য ও পাহাড়। সেই পাহাড়ে ট্রেকিং আর লেকের জলে বোটিং এ ভাবেই কখন ফুরিয়ে যাবে সময়, টেরই পাবেন না।