কাঞ্চনের মাঝে রক্তকাঞ্চনই সেরা

ফুলপ্রেমী মানুষের কাছে কাঞ্চন ফুলের নামটি বেশ পরিচিত। জনপ্র্রিয় এ কাঞ্চন ফুলেরও কয়েকটি প্রজাতি রয়েছে তা হয়তো সবার জানা নাও থাকতে পারে। আর যারা জানেন তারা কাঞ্চনের মাঝে রক্তকাঞ্চন ফুলকেই বেশি পছন্দ করেন। এর মূল রহস্য ফুলটির রং শোভা ও সৌন্দযের্ক ভালোবেসে। তাইতো কাঞ্চনের মাঝে রক্তকাঞ্চনই সেরা। কাঞ্চনের জন্মস্থান ভারত, বাংলাদেশ।

রক্তকাঞ্চন ফুলগাছ ছোট আকার আকৃতির বৃক্ষ। গাছের কান্ড খাট। কান্ড ও শাখা-প্রশাখা বেশ শক্তমানের এবং শাখা-প্রশাখা ছড়ানো। তবে মাঝে মধ্যে বড় আকৃতির গাছও চোখে পড়ে। পত্র ঝরা বৃক্ষ। শীতে গাছের সমস্ত পাতা ঝরে যায়। আর ফুল ফোটার সময়টাতে গাছ থাকে পত্রশূন্য এবং এ সময়ে রক্তিম ফুলে ফুলে ভরে যায় গাছ।

ফুলফুটন্ত গাছ অত্যন্ত নজর কাড়া। ফুল মূলত ঘন মেজেন্টা রঙের। ফুলে নমনীয় কোমল পঁাচটি পাপড়ি থাকে, এর মাঝে একটি পাপড়ি রঙে ব্যতিক্রম; গোড়ার দিকে গাঢ় বেগুনি রঙের কারুকাযর্। ফুলের মাঝে কাস্তের মতো বঁাকা পরাগ অবস্থিত। বিস্তৃত শাখা-প্রশাখার অগ্রভাগে এক বা একাধিক ফুল ফোটতে দেখা যায়। এর ফুল শীতের শেষ দিকে ফোটা শুরু হয়ে গ্রীষ্মকাল অবধি সময় ধরে ফোটতে থাকে। তবে মৌসুমের শুরুতে গাছে অধিক পরিমাণে ফুল ফোটে। বসন্তের মাঝামাঝি গাছে নতুন পাতা গজায়।

পাতা সবুজ, শিরা উপশিরা স্পষ্ট। এর পাতার অন্যরকম বৈশিষ্ট্য একই বেঁাটার পাতা মাঝে দুভাগে বিভক্ত থাকে। আবার দুটি পাতা জোড়া দিলে একটি অন্যটির সঙ্গে সমানে সমান। ফুল শেষে গাছে ফল হয়, ফলে বীজ হয়। ফল দেখতে শীমের মতো চ্যাপ্টা, রঙ প্রথমে সবুজ ও পরিপক্কতা এলে কালচে রঙ ধারণ করে এবং শুকিয়ে গেলে এক সময়ে আপনা আপনিই ফেটে গিয়ে বীজগুলো চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে।

পরিপক্ক বীজের রঙ কালচে খয়েরি। গাছ বেশ কষ্ট সহিষ্ণু। বীজ ও ডাল কাটিংয়ের মাধ্যমে বংশ বিস্তার করা যায়। রক্তকাঞ্চনের রয়েছে ভেষজ নানান রকম গুণাগুণ। উঁচু ভ‚মি, রৌদ্র উজ্জ্বল পরিবেশ থেকে হাল্কা ছায়াযুক্ত স্থান ও প্রায় সব ধরনের মাটিতে এ ফুল গাছ জন্মে। আমাদের দেশে কোনো কোনো বসতবাড়িতে বা প্রতিষ্ঠানের বাগানে, বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়কের আইল্যান্ড, পাকর্, উদ্যান, বন-জঙ্গল ও পাহাড়ি এলাকায় এ রক্তকাঞ্চন ফুল গাছ চোখে পড়ে।